জীবনের শুরুটা ছিল একেবারে নিচু স্থান থেকে। ছোটবেলায় কেউ ভাবেনি—একদিন এই তরুণ হয়ে উঠবেন এলাকার অনুপ্রেরণা। কিন্তু আজ তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পেড়াবাড়িয়া মহল্লার গর্ব। তিনি সজল আহমেদ—যিনি প্রমাণ করেছেন, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে সফলতা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান সজল আহমেদ। পিতা শফির উদ্দিন, মাতা রানু বেগম। সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেও ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করার। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১০ দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। তখন থেকেই মনে জন্ম নেয় আত্মনির্ভর হওয়ার ইচ্ছা।
চাকরির খোঁজে অনেক ঘুরেছেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি। তবে হাল ছাড়েননি। বরং বেকারত্বকে জয় করার দৃঢ় সংকল্প নেন। ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর দিনাজপুরে রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় A+ অর্জন করেন। শুধু তাই নয়, ১৬ জেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আনেন সম্মান।
পরে ইলেকট্রিক হাউস ওয়্যারিং ও আর্কিটেকচারাল লাইটিং ডিজাইনেও দক্ষতা অর্জন করেন। ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১-এর আওতাধীন প্রশিক্ষণ শেষে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে এবিসি বোর্ডের সি ক্যাটাগরি লাইসেন্স (আইডি নং ০৩০২২) অর্জন করেন তিনি।
এখন সজল নিজ উদ্যোগে খুলেছেন একটি ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের দোকান। পাশাপাশি রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশন মেরামতের কাজও করছেন দক্ষতার সঙ্গে। স্থানীয় কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন তিনি—যাদের কর্মসংস্থানও হয়েছে তার হাত ধরেই।
নিজের সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে সজল বলেন,
“পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে সফলতা আসবেই। আমি চাই, তরুণরা যেন বেকার বসে না থেকে নিজের মতো করে কিছু শুরু করে।”
এখন তার এই আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রমই হয়ে উঠেছে এলাকার তরুণদের অনুপ্রেরণা। একসময় যিনি ছিলেন চাকরিপ্রত্যাশী, আজ তিনিই তৈরি করছেন অন্যদের জন্য কর্মের সুযোগ।
সজলের প্রতিবেশী ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এ কে এম আফজাল হোসেন বলেন,
“সজল খুব ভালো ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স কারিগর। সে সৎ, পরিশ্রমী এবং এলাকার যুবকদের সঙ্গে কাজ করছে—এটা প্রশংসনীয়।”
উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা একেএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন,
“সজল আহমেদ আমাদের প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে—এটা আমাদের গর্বের বিষয়। তার সাফল্যে আরও অনেক তরুণ অনুপ্রাণিত হবে।”
নাটোর–১ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাগাতিপাড়া সাব–জোনাল অফিসের এজিএম মমিনুল ইসলাম বলেন,
“সজল একজন পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল কারিগর। তার কাজের মান ও সততা প্রশংসার যোগ্য।”
সজল আহমেদের জীবন যেন এক বাস্তব শিক্ষা—
বেকারত্ব কোনো অভিশাপ নয়, যদি থাকে সাহস, অধ্যবসায় আর নিজের ওপর বিশ্বাস।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত