কুমিল্লা–৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নেতা ও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার সমাবেশ একদিনে একই স্থানে আয়োজিত হওয়ায় দলটির স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে (বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন মাঠ) পাশাপাশি দুটি স্থানে দুই পক্ষই আলাদা মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ করছে।
আসনটি কুমিল্লা আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী এই আসনে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে টাউন হল মাঠে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছেন। একই দিন একই মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি এবং তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী আমিন–উর–রশিদ (ইয়াছিন) অনুসারীরা।
দুই পক্ষই মাঠ বরাদ্দের জন্য টাউন হল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে বরাদ্দের ফি জমা দেওয়া হয়েছে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, একই মাঠে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি জানান, মনিরুলের পক্ষ আগে আবেদন করেছে, ইয়াছিনের লোকজন পরে। তবে দুই পক্ষকে সকাল ও বিকেলে কর্মসূচি ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ইয়াছিনপক্ষের অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় এবং মনিরুলের সমাবেশ দুপুর ২টায় নির্ধারিত হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পূর্ব–উত্তর পাশে রফিকুল ইসলাম মুক্তমঞ্চে ইয়াছিন অনুসারীরা মঞ্চ ও প্যান্ডেল সাজাচ্ছেন। অন্যদিকে মাঠের কেন্দ্রস্থলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের সামনে মনিরুলপক্ষ তাদের মঞ্চ প্রস্তুত করছে।
টাউন হলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল কবির জানান, দুই পক্ষই বিএনপির হওয়ায় আলোচনা করে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, তারা নির্ধারিত সময়সূচি মেনে আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করবেন।
উল্লেখ্য, ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। কুমিল্লা–৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরীর নাম ঘোষণার পর থেকেই আমিন–উর–রশিদের অনুসারীরা টানা ১১ দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।