রাজশাহী বিভাগীয় আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে নাটোরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জয় করেছে। দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, নাটকীয় গোল, লাল কার্ড ও ট্রাইবেকারের রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে ফাইনাল ম্যাচটি পরিণত হয় এক স্মরণীয় ফুটবল লড়াইয়ে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের মুখোমুখি হয় নাটোরেরই সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই দল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলায় গতি আনে। মাঝমাঠে বলের দখল নিয়ে চলে তীব্র লড়াই। শুরু থেকেই গ্যালারিভর্তি দর্শকদের উল্লাসে মুখর থাকে স্টেডিয়াম।
ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছাপ রাখে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ। দ্রুতগতির উইং আক্রমণ ও নিখুঁত ছোট পাসে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধের সপ্তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় দলটি। সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ১৫ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আমানুল্লাহ নিখুঁত শটে জাল কাঁপান। প্রথম গোলেই ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খেলার ১৬ মিনিটের মাথায় হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মাঠের পরিস্থিতি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ম্যাচ রেফারি মোসাদ্দেকুল কুদ্দুস দুই দলের দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখান। সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩ নম্বর জার্সিধারী রিফাত হোসেন এবং বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের ৭ নম্বর জার্সিধারী শুভ মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এতে উভয় দলই দশজন খেলোয়াড় নিয়ে ম্যাচ চালিয়ে যায়।
লাল কার্ডের ধাক্কা সামলেও বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ আক্রমণের ধার কমায়নি। প্রথমার্ধের ২৭ মিনিটে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন ৪ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় রাকিবুল। তার শক্তিশালী শট গোলরক্ষকের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রথমার্ধ শেষ করে বিলচলন কলেজ।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামে সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মাঝমাঠে চাপ বাড়িয়ে তারা একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। এর ফল মেলে ৫৩ মিনিটে। দলের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় ফাহাদ হোসেন একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে ব্যবধান কমান। গোলের পর ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে। এরপর ৫৯ মিনিটের মাথায় নাটকীয়ভাবে সমতায় ফেরে সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দলের ১২ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আবদুল্লাহ বিন কাফি সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ২-২ গোলের সমতায়। দর্শকদের উল্লাসে স্টেডিয়াম তখন উত্তাল। ম্যাচের ফল নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় ট্রাইবেকারের। স্নায়ুচাপের এই মুহূর্তে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের গোলকিপার। প্রতিপক্ষের একাধিক শট ঠেকিয়ে তিনি দলের জয়ের পথ সুগম করেন। শেষ পর্যন্ত ট্রাইবেকারে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার মোট ১৬টি কলেজ দল অংশগ্রহণ করে। নকআউট পদ্ধতিতে আয়োজিত প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচেই ছিল জমজমাট লড়াই। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এ সময় তিনি তরুণদের খেলাধুলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী, টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, ক্রীড়া পরিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক আখতারুজ্জামান রেজা তালুকদার রুমি, নাটোরের জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য ও মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ডালিম হোসেন শান্তসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ধারাভাষ্যকার হিসেবে ছিলেন, আব্দুর রোকন মাসুম, আব্দুল হানিফ মিয়া, সিরাজী ফেরদৌস, জাহিদুল ইসলাম।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত