প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৫, ২০২৬, ১২:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ৮:০৯ পি.এম
তারেক রহমানের সংবর্ধনায় এক প্রতীকে হাজারো অনুভূতি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়কে জনস্রোত নামে। এদের কেউ এসেছে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে, কেউ এসেছে স্মৃতির টানে, কেউবা নিছক ভালোবাসা থেকে। তবে সবার ভেতরে একই স্পন্দন আশা। তাদেরই একজন গার্মেন্টকর্মী মামুন মিয়া (৫৫)।তিনি এসেছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে। দুপুর ১টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয় মূলমঞ্চের সম্মুখ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে। তখন দেখা মেলে তার মাথায় মাতাল দেওয়া তার ওপরে ধানের শীষ দিয়ে জড়ানো এবং হাতে একটি পলিব্যাগে ধানের শীষে ভরা। আলাপকালে মামুন জানান, গাজীপুরে গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে কুলিয়ারচরে গ্রামের বাড়ি গিয়ে অন্যের জমি থেকে ধানের শীষ কিনে এসেছেন। রাত থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভালো ছিল সারা শরীরে ধানের শীষ জড়িয়ে। কিন্তু তারপর আর গরমের কারণে টিকতে না পেরে ধানের শীষ শুধু মাথারটা রেখে শরীরেরগুলো খুলে ফেলেন। তিনি বলেন, নিচক ভালোবাসা থেকে একজন বিএনপির ভক্ত হিসেবে এ আয়োজন করেছি। গার্মেন্টকর্মী মামুনের সঙ্গে আলাপকালে দেখা যায়, অনেকে সেটাকে ছুঁয়ে দেখছে, কেউ ছবি তোলার বায়না করছে। মামুনও খুশির তোড়ে তাদের সঙ্গে ছবি তুলছেন। মামুন তারেক রহমান দেশের সকল স্তরের মানুষের আশা-ভরসার আশ্রয়স্থল যেন হন সেই আহবান জানান। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া শরীফুল আলমের জন্য দোয়া চাইলেন। এরপর কথা হয় জামালপুর সদর থেকে আসা বৃদ্ধা শামসুল হকের (৭২) সঙ্গে।
তিনিও ধানের শীষের তোড়া করে ওপরে পোস্টার লাগিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগ দেন। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো নেতা তারেক রহমানকে দেখেছি, অনুভূতি বলে শেষ করতে পারব না। এখানে আসা এবং জামালপুর থেকে এই ধানের শীষের তোড়া নিয়ে আসা স্বার্থক হয়েছে।
শুধু মামুন ও শামসুল হকই নয়, তাদের মতো বিএনপির মূল দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ সংশ্লিষ্টদের অসংখ্য কর্মী আবেগ ভালোবাসায় ধানের শীষ, লোগো খচিত ক্যাপ, টি-শার্ট, ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টারে অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দেন।
এই সংবর্ধনা সভা কেবল রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, অনেকের কাছে এটি স্মৃতির পুনর্মিলন। অনেকে দুই দিন ধরে ঢাকার বাইরে থেকে এসে অপক্ষো করছেন এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসার জন্য। আয়োজনে আসা অনেক পুরোনো কর্মীদর কথায় ফিরে আসে আন্দোলনের দিন, গ্রেপ্তার, নির্ঘুম রাতের গল্প। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অনুষ্ঠানে আসা নেতাকর্মী ও ভক্তদের কারো কারো চোখে ক্লান্তি দেখা গেলেও কণ্ঠে রয়েছে গর্ব। তারা বলেন, “আমরা সময়ের সাক্ষী। আজ নতুন প্রজন্মকে নতুন উদ্যেমে দেখছি এটাই বড় পাওয়া।’
বিকেলে তারেক রহমানের বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানস্থল ফাঁকা হতে হতে বোঝা যায় এখানে শুধু বক্তৃতা হয়নি, হয়েছে অনুভূতির আদান-প্রদান। ধানের শীষ নেতাকর্মীদের জন্য শুধু একটি প্রতীক নয়; অনেকের কাছে এটি স্মৃতি, সংগ্রাম, আশা আর পরিচয়ের নাম। তারেক রহমানের সংবর্ধনা সভা সেই অনুভূতিগুলোকে এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
[email protected]
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত