বিএনপির তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং একজন বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এডভোকেট মিলন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ সালাম ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ত্যাগের মহিমায় আলোকিত এই নেত্রীর জীবন সংগ্রাম, নির্যাতন ও ধৈর্যের অনন্য উদাহরণ। জন্মের পর থেকেই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে তিনি জীবন কাটিয়েছেন। সেনা পরিবারের স্ত্রী হিসেবে যুদ্ধকালীন উৎকণ্ঠা, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বন্দিদশা—সবকিছুই তাকে আরও দৃঢ় ও আপসহীন করে তুলেছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
প্রধান অতিথি বলেন, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বেগম খালেদা জিয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা চালুসহ নানা সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি তার শাসনামলেই বাস্তবায়িত হয়। গণতন্ত্র সুসংহত করতে তিনি রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে এডভোকেট মিলন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। একতরফা ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে পতিত সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সেই সরকার প্রধান প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রেখে পরিকল্পিতভাবে তাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। কারাগারে তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, বিদেশে চিকিৎসার সুযোগও বাধাগ্রস্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে এডভোকেট মিলন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও ত্যাগের কারণেই তিনি আজ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হতে পেরেছেন। তিনি দেশনেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিহাব উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোজাহার আলী। এতে জেলা ও উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই উপলক্ষে মোহনপুর গার্লস কলেজ ও পবার দাদপুর এলাকাতেও পৃথক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত