সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষা দিতে এসে বাবার মৃত্যুসংবাদ পান সালমা খাতুন। মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে কান্নায়। তবু শোক আর অশ্রু বুকে চেপে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন এই তরুণী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কামারখন্দ সিনিয়র ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা কেন্দ্রে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে। সালমা খাতুন চৌহালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ মুন্সির মেয়ে।
জানা যায়, যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল পেরিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে কামারখন্দে আসেন সালমা। দুপুর সোয়া ১টার দিকে হঠাৎ করেই তিনি জানতে পারেন—তার বাবা আর নেই। খবরটি শোনামাত্র দেড় বছরের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পাশে থাকা স্বামী ও সহপরীক্ষার্থীরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
কান্নায় বারবার ভেঙে পড়লেও পরিবারের ভবিষ্যৎ আর নিজের স্বপ্নের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেন সালমা।
সালমার স্বামী আলমগীর হোসেন জানান, তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সালমা সবার ছোট। একই গ্রামে বিয়ে হওয়ায় বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিলেন সালমার বাবা। পরীক্ষাকেন্দ্রে বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরও মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছিল তার জন্য অত্যন্ত কঠিন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন জানান, কামারখন্দ উপজেলায় ছয়টি কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, পারিবারিক শোকের কারণে পরীক্ষার্থী সালমার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত