আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম এই আদেশ দিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বুধবার মহানগর দায়রা জজ তার ক্ষমতাবলে মামলাটির বিচারিক আদালত নির্ধারণ করে নথি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য বাদী ও নিহত আইনজীবী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ আসেনি।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে থাকা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করেন। পরে আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে তাদের ধাওয়া দেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে প্রধান আসামি হিসেবে চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে আদালত চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে বর্তমানে ১৭ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের ফলে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত