জাল সনদে চাকরি করে বছরের পর বছর দিব্যি বেতন তুলে নেওয়া—এমন অভিযোগে এবার নড়েচড়ে বসেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতায় এতদিন পার পেয়ে যাওয়া অসংখ্য জাল শিক্ষককে শনাক্ত করতে এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি সরাসরি পাঠানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
নির্দেশনা অমান্য, তথ্য গোপন কিংবা সনদে টেম্পারিং করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি সারাদেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এনটিআরসিএর জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ প্রেক্ষিতে এমপিওভুক্ত পদে কর্মরত নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সনদ যাচাই এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধানসহ এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ যাচাই করে পাঠাতে হবে।
এনটিআরসিএ আরও জানিয়েছে,
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে-এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য,এমপিওভুক্ত শূন্যপদের তালিকা, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের এমপিও শিট,এমপিওভুক্ত পদে কর্মরত নিবন্ধনধারী সব শিক্ষকের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষরযুক্ত অগ্রায়ণপত্রসহ চিঠি পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ডাকযোগে, কুরিয়ার অথবা বাহকের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।
চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে-এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না। তথ্য গোপন, সনদ জালিয়াতি, সনদ টেম্পারিং কিংবা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।
সনদ পাঠানোর ঠিকানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে—
চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)
রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার (৪র্থ তলা)
৩৭/৩/এ, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
উল্লেখ্য, সারাদেশে প্রায় ৩২ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি শিক্ষক এবং তাদের একটি বড় অংশ এনটিআরসিএ সনদধারী। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে জাল সনদধারী শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এনটিআরসিএর এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা জালিয়াতির মুখোশ উন্মোচিত হবে। তবে রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক দুর্বলতা কাটিয়ে কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত কতটা দৃঢ় অবস্থানে থাকতে পারে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত