নবজাতক ও ছোট শিশুদের সুস্থ বৃদ্ধি, শক্ত হাড় ও ভালো ঘুমের জন্য তেল মালিশকে উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শীত মৌসুমে ঠাণ্ডা হাওয়া, কম রোদ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শিশুদের ত্বক ফেটে যাওয়া, সর্দি-কাশি ও অন্যান্য অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এ সময় শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বাংলা সংস্কৃতিতে শিশুকে নিয়মিত তেল মালিশ করার প্রচলন বহু পুরোনো। তবে শুধু তেল মাখলেই চলবে না—সঠিক তেল নির্বাচন, উপযুক্ত তাপমাত্রা এবং নির্দিষ্ট সময় মেনে মালিশ করলে তবেই এর পূর্ণ উপকার পাওয়া যায়।
শিশুর জন্য কোন তেল সবচেয়ে উপযোগী
নবজাতক শিশুদের ত্বক অত্যন্ত নরম ও সংবেদনশীল হওয়ায় তাদের জন্য হালকা ও দ্রুত শোষণযোগ্য তেল ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নারকেল তেল বা বাদাম তেল সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর বলে মনে করা হয়। এসব তেল ত্বকে সহজে মিশে যায় এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
শিশু একটু বড় হলে সরিষার তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। সরিষার তেল শরীর গরম রাখতে সহায়ক হলেও এটি অবশ্যই হালকা গরম করে ব্যবহার করতে হবে।
ঠাণ্ডা তেল কেন ব্যবহার করা ঠিক নয়
অনেক অভিভাবক বোতল থেকে সরাসরি তেল নিয়ে মালিশ শুরু করেন, যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ঠাণ্ডা তেল লাগালে শিশুর ঠাণ্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে এবং সে অস্বস্তিতে পড়তে পারে। তাই মালিশের আগে তেল সামান্য গরম করে নেওয়া জরুরি। তবে তেল অতিরিক্ত গরম করা যাবে না—হাতে লাগালে আরামদায়ক মনে হয় এমন তাপমাত্রাই উপযুক্ত।
মালিশের জন্য সেরা সময় কখন
শিশুকে তেল মালিশ করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো সকাল। এ সময় শিশুর শরীর থাকে সতেজ ও শিথিল। সকালে সূর্যের হালকা উষ্ণতা থাকলে মালিশের উপকারিতা আরও বাড়ে এবং ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকি কমে।
সকালে গোসলের আগে মালিশ করলে শিশুর পেশি শিথিল হয়, রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং তার শারীরিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। পাশাপাশি নিয়মিত সকালবেলার মালিশ শিশুর ঘুমের মান উন্নত করে, ফলে সে আরও শান্ত ও সক্রিয় থাকে।
মালিশের পর ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষা জরুরি
মালিশের পর শিশুর ত্বক কিছু সময়ের জন্য উন্মুক্ত থাকে, যা ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই মালিশ শেষে দ্রুত গরম ও আরামদায়ক পোশাক পরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। যদি গোসল করাতে হয়, তবে মালিশের পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত, যাতে তেল ভালোভাবে ত্বকে শোষিত হয়।
শিশুর সুস্থতায় মালিশের ভূমিকা
সঠিক নিয়মে তেল মালিশ শিশুর শরীরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ঘুম, হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। বিশেষ করে শীতকালে নিয়মিত মালিশ শিশুদের সুস্থ ও সজীব রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত