উত্তরের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ জেলায় সব ধরনের সরু চালের দাম বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে কেজিতে ১ থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। খুচরা পর্যায়ে সরু চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মোটা জাতের চাল স্বর্ণা-৫–এ, যার দাম কেজিতে কমেছে প্রায় ৫ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সারা বছরের সরু চাল মূলত বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান থেকেই আসে। বোরো মৌসুম শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে মজুদ কমে যাওয়ায় বাজারে সরু ধানের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলেই বাড়ছে সরু চালের দাম।
চালের দাম বৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। ধান-চালের জেলা হয়েও চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দ্রুত চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নওগাঁ পৌর শহরের বিভিন্ন খুচরা চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি কাটারিভোগ চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৭৬ টাকা, জিরাশাইল ৬৮-৭০ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৬০-৬২ টাকা এবং আতব চাল ১৩০ টাকা দরে। অন্যদিকে মোটা জাতের স্বর্ণা-৫ চাল কেজিতে ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে।
দুই সপ্তাহ আগে এসব বাজারে কাটারিভোগ চাল বিক্রি হয়েছিল ৭০-৭২ টাকা, জিরাশাইল ৬৪-৬৬ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৫৭-৬০ টাকা এবং স্বর্ণা-৫ চাল ৫৪-৫৫ টাকা কেজি দরে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নওগাঁ জেলায় উৎপাদিত মোট ধানের প্রায় ৫১ শতাংশ সরু, ২৯ শতাংশ মোটা এবং বাকিগুলো সুগন্ধি জাতের। বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়। সরু জাতের ধান মূলত এই মৌসুমেই উৎপাদিত হয়, যা দিয়ে সারা বছর জেলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা হয়।
চরমুক্তার মহল্লার অটোরিকশাচালক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন ৭০০-৮০০ টাকা আয় হলেও এর মধ্যে গ্যারেজ ভাড়াই দিতে হয় ৩৫০ টাকা। তিন সদস্যের পরিবারের জন্য প্রতিদিন এক কেজির বেশি চাল লাগে। চালসহ সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।”
দিনমজুর আফসার আলী বলেন, “আমাদের পরিবারে সপ্তাহে ১০ কেজি চাল লাগে। এক সপ্তাহ আগেও জিরাশাইল ৬৪ টাকা কেজিতে কিনেছিলাম, এখন ৬৮ টাকা দিতে হচ্ছে। চালের সঙ্গে সবজি, মাছ সবই কিনতে হয়। চালের দেশে থেকেও যদি চালের দাম বাড়ে, তাহলে আমাদের মতো মানুষের বাঁচা কঠিন।”
খুচরা চাল ব্যবসায়ী রাশেদুল হক জানান, বাজারে সরু চালের সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাও কমে গেছে। তিনি বলেন, চাল আমদানি বন্ধ থাকাও বাজারে প্রভাব ফেলছে, আমদানি শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, পাইকারি বাজারে সরু চালের দাম কেজিতে দেড় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বোরো ধানের মজুদ প্রায় শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে কাটারিভোগ ও জিরাশাইল ধান মণপ্রতি ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আমন মৌসুম চলায় মোটা ধানের সরবরাহ ভালো থাকায় এর দাম কমেছে, ফলে মোটা চালের দামও কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত