চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব ও গ্রামীণ সংস্কৃতির আয়োজন। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের সোনার মোড় এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয় চত্বরে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
পিঠা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক তুফানসহ শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ এবং পিঠা উৎসবে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা।
উৎসবে ৪০টি স্টলে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি বাহারী পিঠা-পুলি নিয়ে অংশ নেয়। ভাপা পিঠা, চিতই, পাটিসাপটা, পুলি, দুধচিতইসহ নানা ধরনের গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পিঠায় সাজানো ছিল প্রতিটি স্টল। ছোট ছোট শিশুরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে তৈরি করা পিঠা নিয়ে এসে স্টলে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখে।

স্টলগুলো সাজানো হয় রঙিন বেলুন, চিকিমিটি পাতা ও রঙিন কাগজ কেটে বানানো ফুল দিয়ে। শিশুদের এসব কাজে সহায়তা করেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। পাশাপাশি অভিভাবকরাও তাঁদের সন্তানদের নানাভাবে সাজিয়ে ‘যেমন খুশি—তেমন সাজো’ প্রতিপাদ্যে উৎসবে অংশ নেন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বাড়তি আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
পিঠা বিক্রির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আয়ও করে। নিজের হাতে বানানো পিঠা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিল ছোট সোনামণিরা।
উৎসবে অংশ নেওয়া অনেক শিশু জানায়, এ আয়োজনের মাধ্যমে তারা নতুন করে গ্রামীণ নানা খাবারের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছে। আধুনিক খাবারে অভ্যস্ত হলেও পিঠা উৎসবে এসে তারা গ্রামীণ খাবারের স্বাদ নিতে পেরে আনন্দিত। অভিভাবকরাও জানান, বর্তমান প্রজন্ম ধীরে ধীরে গ্রামীণ খাবার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ ধরনের উৎসব শিশুদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “গ্রামীণ সংস্কৃতি ও হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার খাবারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই প্রতি বছর আমরা গ্রামীণ খেলাধুলা ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করে থাকি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।” ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজনের আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক তুফান বলেন, “দিন দিন হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন। এই উৎসবের মাধ্যমে শিশুরা প্রায় ৫০ ধরনের গ্রামীণ খাবারের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ খাইরুন নেসা, সহকারী শিক্ষক মোঃ আরিফ আলী, ফারজানা তামান্না নওরোজ, মোসাঃ শুকতারা খাতুন, মোসাঃ সাবিনা ইয়াসমিন, মোঃ রবিউল ইসলাম, ইব্রাহীম খলিল নয়ন, মোসাঃ রহিমা বেগম, উম্মে রায়হান, মোসাঃ ফুলেরা খাতুন, মাহাতারামা ইয়াসমিন মুক্তি, কানিজ ফাতিমা সাথি, শিক্ষক পুতুল ও তুলি, হিসাবরক্ষক গুলে জান্নাত লুমা, আয়া হাসনারা রাখি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ দর্শনার্থীরা।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত