তথ্য গোপন করে একই সময়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বেতন ও ভাতা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর পোরশা সরকারি কলেজের তিন প্রভাষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন—ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আবু ইলিয়াস, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মাহফুজা বেগম এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তাসলিমা জাহান।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সরকারি চাকরি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে তাঁরা কলেজে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবেও চাকরি করেছেন এবং একই সময়ে একাধিক উৎস থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।
তথ্য অনুযায়ী, আবু ইলিয়াস ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে পোরশা সরকারি কলেজে যোগ দেন। কলেজে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি ২০১৭ সালের মার্চে একই উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে চাকরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিস ও কলেজ—দুই জায়গা থেকেই নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মাহফুজা বেগমের বিরুদ্ধেও। তিনি কলেজে যোগদানের আগেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে কলেজে নিয়োগ পাওয়ার সময়ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি বহাল রেখে কলেজ থেকে বকেয়াসহ বেতন উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তাসলিমা জাহানও কলেজে যোগদানের পর অন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নেন। ওই সময় তিনি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকলেও কলেজ থেকে বেতন ও ভাতা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনজনের কর্মকাল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট তাঁদের কলেজে ভূতাপেক্ষভাবে আত্তীকরণ দেখানো হলেও ওই সময় বাস্তবে তাঁরা কেউই কলেজে সক্রিয়ভাবে কর্মরত ছিলেন না। বরং প্রত্যেকেই বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পোরশা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ওয়াকিল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট তিন প্রভাষক একই সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ—দুই দপ্তর থেকেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। এটি সরকারি চাকরি বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন এবং গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির শামিল।
অভিযুক্ত প্রভাষক মাহফুজা বেগম দাবি করেন, কলেজটি তখন এমপিওভুক্ত না থাকায় তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়েননি এবং অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ পরে ফেরত দিয়েছেন। আবু ইলিয়াসও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে অতিরিক্ত বেতন ফেরত দেওয়ার দাবি করেন।
অন্যদিকে তাসলিমা জাহান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
কলেজটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মানবিক কারণ দেখিয়ে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ করলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সরকারি নির্দেশনা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বেতন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত