বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার আওতায় দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ২ টাকা করে হ্রাস করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দামে ডিজেল বিক্রি হবে প্রতি লিটার ১০০ টাকায়, কেরোসিন ১১২ টাকায়, পেট্রোল ১১৬ টাকায় এবং অকটেন ১২০ টাকায়। শনিবার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ঘোষিত নতুন দাম আগামীকাল রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা গত বছরের মার্চ মাস থেকে চালু করেছে সরকার। এই পদ্ধতিতে প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম নির্ধারণ করছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি সেচ, পরিবহন খাত ও জেনারেটরে ব্যবহৃত হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি দিয়ে।
বিপিসি সূত্র আরও জানায়, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রিতে সংস্থাটি সাধারণত লাভবান হয়ে থাকে। আগে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফার্নেস অয়েলের দাম নিয়মিতভাবে বিপিসি সমন্বয় করলেও বর্তমানে এ দায়িত্ব পালন করছে বিইআরসি। অন্যদিকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের মূল্য নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
জ্বালানি বিভাগ জানায়, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করা হয়। এ ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে দেশের বাজারেও কমবে এবং দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারেও তার প্রভাব পড়বে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত