রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগে অবস্থান নেন। এতে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এর আগে শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়েরের নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
সংঘর্ষে আহত আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, জকসুর সদস্য শান্তা আক্তারসহ মোট ২০ থেকে ২৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ইমরান হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা জলকামানের ওপর উঠে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে জনস্বার্থে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।
উল্লেখ্য, আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে জাতিসংঘের অধীনে ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়—এই দুই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড স্থাপন করে।
শুক্রবার যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন নিহত ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাসহ কয়েকজন। অন্যদিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েক শ নেতাকর্মী অবস্থান নেন।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এর পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশ প্রথমে জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয়। পাল্টা হিসেবে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ইটপাটকেল ছোড়ে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত