ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। টানা চার দিনের সরকারি ছুটিতে দূরপাল্লার বাস টার্মিনালগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর রেলওয়ে স্টেশনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের নজিরবিহীন চাপ। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে ভিড় চরমে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উত্তরাঞ্চলের একাধিক ট্রেন ছাড়ে। প্রতিটি ট্রেনেই ছিল অতিরিক্ত যাত্রীচাপ। বগির ভেতরে বসা ও দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ভিড় দরজা ছাড়িয়ে প্রবেশমুখ পর্যন্ত গড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী টিকিট থাকা সত্ত্বেও নিজের আসনে পৌঁছাতে পারেননি। কেউ কেউ জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ দেড় দশক পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা কোনোভাবেই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না। কষ্ট, ভোগান্তি ও ঝুঁকি উপেক্ষা করেই তারা ছুটছেন ভোটকেন্দ্রের দিকে।
কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের যাত্রী রিপন মুন্সি বলেন, “দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি ভোট দিতে। টিকিট পাইনি, ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। তাই বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছি। নিজের চিন্তা নেই, শুধু চাই ছেলেদের নিয়ে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে।”
অন্যদিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এক পোশাক শ্রমিক রোকসানা জানান, টিকিট কেটেও তিনি সিটে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি বলেন, “মানুষের ভিড় ঈদের সময়কেও হার মানিয়েছে। কষ্ট হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু জীবনের প্রথম ভোট দেব—এই আনন্দটাই সবচেয়ে বড়।”
স্টেশন সূত্র জানায়, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এক স্টেশন মাস্টার জানান, মাইকিং করে ছাদে উঠতে নিষেধ করা হলেও অনেকে অতি উৎসাহে কিংবা বিকল্প না পেয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন।

এদিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারগুলোতেও দেখা গেছে বাড়তি চাপ। প্রায় সব কাউন্টারের সামনেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। অনেকে অনলাইনে কাটা টিকিট সংগ্রহ করতেও কাউন্টারে ভিড় করছেন।
ভোটের অধিকার প্রয়োগের এই আগ্রহ ও মানুষের ঢল নির্বাচনী আমেজকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত