ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারপর্বে কয়েকটি আসনের কিছু প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে জনসভা—সবখানেই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, আলোচিত অনেক প্রার্থীই শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি। আবার কিছু আসনে হয়েছে চমকও।
রাজধানীর ঢাকা-৮ আসন ছিল সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি। এখানে বিএনপির মির্জা আব্বাসের মুখোমুখি হন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নানা বক্তব্য ও প্রচারণা কৌশলে তিনি আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান মির্জা আব্বাস। ফল ঘোষণা হয় ভোররাতে।
পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির সারজিস আলম আলোচনায় ছিলেন। তিনি শাপলাকলি প্রতীকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট পান। ধানের শীষ প্রতীকের ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। ফল ঘোষণার পর সারজিস আলম প্রতিদ্বন্দ্বীকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের উদাহরণ স্থাপন করেন।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন ডা. তাসনীম জারা। প্রচারণায় আলোচনায় থাকলেও ফলাফলে তিনি তৃতীয় স্থানে থাকেন এবং বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমানের কাছে পরাজিত হন।
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির ববি হাজ্জাজ ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত মাওলানা মামুনুল হকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ধানের শীষ প্রতীকে ববি হাজ্জাজ ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট পান, আর মামুনুল হক পান ৮৬ হাজার ৬৭ ভোট। ব্যবধান ছিল ২ হাজার ৩২০ ভোট। ফল ঘোষণার পর অনিয়মের অভিযোগ তোলেন মামুনুল হক।
ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের কর্নেল (অব.) মো. আব্দুল বাতেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির আমিনুল ইসলাম পান ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।
খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট পান। বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগার (লবি) ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট পেয়ে প্রায় ২ হাজার ৭০২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন; বিএনপির নাছির উদ্দিন চৌধুরী পান ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট।
কক্সবাজার-2 আসনে জামায়াতের ড. হামিদুর রহমান আযাদ ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট পান; বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
রংপুর-৩ আসনে জামায়াতের মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পান ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট।
বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারান; বিএনপির মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোটে নির্বাচিত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন; বিএনপির হারুনুর রশীদ হারুন পান ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত