কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট এলাকায় গড়ে তোলা কিছু অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ব্যানার ব্যবহার করে এসব স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ওঠার পর গত শনিবার রাতে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা সেগুলো গুঁড়িয়ে দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শুক্রবার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাঁশ ও টিন দিয়ে অন্তত ১৫টি অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করেন। এর মধ্যে একটি দোকানে কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের নির্বাচনী প্রতীকসংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে যে তাঁর নাম ব্যবহার করে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ–সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ফুটেজও প্রচারিত হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর লুৎফুর রহমান কাজল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পর্যটন শহর কক্সবাজারকে নিরাপদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর পরদিন রাতে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থাপনাগুলো ভেঙে দেন।
লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, বাঁকখালী নদীর কিছু জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে। অতীতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। তবে অবৈধভাবে নদী বা নদীবন্দরের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর নির্বাচনী ব্যানার ব্যবহারকারীদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে নদীর জায়গায় স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠায় দলীয় নেতা–কর্মীরা সেগুলো অপসারণ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৪৯৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ৬৩ একর জমি উদ্ধার করা হয়। পরে জমি পুনর্দখল ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া ও সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে গত ৭ ডিসেম্বর স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের মুখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পিছু হটে। এরপর থেকে উদ্ধার করা জমি অরক্ষিত অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার কস্তুরাঘাট নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, সম্প্রতি সেখানে গিয়ে নদীবন্দরের জমিতে নতুন করে ১৫টি ঘর নির্মাণের বিষয়টি দেখা গেছে। বিষয়টি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নদীবন্দরের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, হামলা, সংঘর্ষ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেছে। মামলায় ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১ হাজার ৬০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দখলদারদের পক্ষের আইনজীবী মো. ইসমাইল বলেন, উচ্ছেদ করা জমির একটি অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে। তাঁর মতে, নদীবন্দরের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করতে হলে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা করা উচিত।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত