প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১, ২০২৬, ৯:৫১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬, ৩:২৪ এ.এম
নবম ও দশম শ্রেণি : রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থা
পৌরনীতি ও নাগরিকতা
চতুর্থ অধ্যায়
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১। গণতন্ত্রে নাগরিকগণ কিভাবে প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে বলে তারা প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে। যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা সব নাগরিক তথা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা হয়।
এ শাসনব্যবস্থায় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠিত হয় বলে সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে পারে না। এভাবেই গণতন্ত্রে জনগণ প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকে।২। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে কী বুঝো?
উত্তর : যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করে, তাকেই কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা হয়।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সমাজের মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। এ ধরনের রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বেকার ভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদির ব্যবস্থা করে। কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, নরওয়ে ইত্যাদি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উদাহরণ।
৩। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কিভাবে দলীয় স্বেচ্ছাচারিতা সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : শাসক রাজনৈতিক দলের নেতিবাচক ভূমিকা পালনের ফলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দলীয় স্বেচ্ছাচারিতা সৃষ্টি হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বহুদলীয় ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকার গঠন করে।
নির্বাচিত দল সব সময় জনস্বার্থের তুলনায় নিজের দলের স্বার্থের দিকে লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করে। এ মনোভাবের ফলেই দলীয় স্বেচ্ছাচারিতা সৃষ্টি হয়।৪। নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রের রাজা বা রানি উত্তরাধিকারসূত্রে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন সেটাই নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। যেসব রাষ্ট্রে শাসকগণ উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা লাভ করেন, কিন্তু সীমিত ক্ষমতা ভোগ করেন তখন তাকে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বলে। ওই সব রাষ্ট্রে প্রকৃত শাসনক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে। যুক্তরাজ্যে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রচলিত রয়েছে।
৫। একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয় কেন?
উত্তর : একনায়কতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধান নিজের ইচ্ছামতো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বলে একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয়। একনায়কের ইচ্ছানুযায়ী আইন প্রণয়ন ও বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। এখানে গণমাধ্যমগুলোর কোনো স্বাধীনতা থাকে না। একনায়কের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারে না। এ ব্যবস্থায় শাসককে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। এসব কারণে একনায়কতন্ত্রকে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা বলা হয়।
৬। ‘জনগণের কল্যাণ সাধনই কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : যে রাষ্ট্র জনগণের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য দলে কল্যাণমূলক কাজ করে, তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হলো জনকল্যাণ সাধন করা। এ ধরনের রাষ্ট্র সমাজের সবার মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে। রাস্তাঘাট, এতিমখানা, সরাইখানা, খাদ্যে ভর্তুকি প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে।
- সাধন সরকার, সহকারী শিক্ষক, লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সীগঞ্জ
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
[email protected]
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত