সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে; রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় আনা হবে না।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সচিব সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সচিবদের আন্তরিক ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণ সরকারের ঘোষিত ইশতেহারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রায় দিয়েছে, তাই সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রী আব্দুল বারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং ৭৪ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব সভায় অংশ নেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সচিব পদে পদায়ন বা বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করা হবে না। কর্মকর্তাদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে কে কাকে ভোট দিয়েছেন তা সরকারের বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং দক্ষতা ও কর্মদক্ষতাই হবে মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, সংবিধান ও আইন মেনে দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সচিবালয়ের বিধি-বিধান মেনে কাজ করার পাশাপাশি অধীনস্ত কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তোলার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রয়াস জরুরি। সচিবদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সচিব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত