সাবেক সরকারের আমলে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং লাইসেন্সধারীরা আইনগতভাবে উপযুক্ত কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, যাচাই শেষে যাদের লাইসেন্স বৈধ ও প্রাপ্য বলে প্রতীয়মান হবে, সেগুলো বহাল থাকবে। আর যেসব ক্ষেত্রে অনিয়ম বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মিলবে, সেসব লাইসেন্স বাতিল করে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি সার্কুলার জারি করা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে কতটি লাইসেন্স ও লাইসেন্সধারী অস্ত্র রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র জমা পড়েনি। ফলে সেগুলো আইনগতভাবে অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে মামলা করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এ সংক্রান্ত যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোও পর্যালোচনা করে নিয়মিত করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়ের হওয়া বহু মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, সব মামলা সঠিক ছিল না। কিছু ক্ষেত্রে নির্দোষ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও সমাজের বিশিষ্টজনদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলা যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে নিরাপত্তা বা বিশেষ প্রটোকল দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী যাদের প্রাপ্য, কেবল তারাই প্রটোকল পাবেন।
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের ইশতেহারেও রয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পদবঞ্চিত পুলিশ সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠন। সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত