চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টানা তৃতীয় মাসের মতো তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগে জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে।
সাধারণত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয় বাড়ে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে দিনসংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২৫৩ কোটি ডলার। সেই তুলনায় এবার প্রায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি নির্বাচন-পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাবও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশের ইতিহাসে এটি চতুর্থবারের মতো কোনো মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এর আগে গত বছরের মার্চে—রমজান ও ঈদের মাসে—৩৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা একক মাসে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ পাচার রোধ এবং ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ ঠেকাতে বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে হুন্ডি প্রবণতা কমে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বেড়েছে।
উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারে। বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। একসময় যা ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল।
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিকতা আমদানি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হলেও ডলার সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ১২২ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে।