চলমান ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে কঠোরতা কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আট মাস আগে দেওয়া সীমাতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় ছাড়া নবায়ন না করার নির্দেশনা বাতিল করে নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে—ঋণ ‘বিরূপ মানে’ শ্রেণিকৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত নবায়নের সুযোগ থাকবে। এ সুবিধা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যবসায়ীদের জন্য দুটি সুবিধা ঘোষণা করা হলো। একই দিনে জারি করা আরেক নির্দেশনায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধে এক বছর মেয়াদি বিশেষ ঋণ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে জারি করা এক সার্কুলারে চলমান ঋণের সংজ্ঞা ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয় নির্ধারণ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ অংশ পরিশোধ ছাড়া তা অশ্রেণিকৃত করা যাবে না। পরবর্তীতে গত বছরের ২৫ জুনের নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়—চলমান ঋণ বিদ্যমান মেয়াদের মধ্যেই নবায়ন করতে হবে এবং সীমাতিরিক্ত অংশ সমন্বয় ছাড়া নবায়ন করা যাবে না।
ওই নির্দেশনায় আরও উল্লেখ ছিল, সীমাতিরিক্ত অংশ আলাদা করে নতুন ঋণ সৃষ্টি বা অন্য কোনো হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না। ব্যাংক খাতে ঋণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিভিন্ন কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে চলমান ঋণ নবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী—চলমান ঋণ মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে দুই মাস আগে নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে (গ্রাহকের আবেদন গ্রহণ, ডকুমেন্টেশন ইত্যাদি)।সময়মতো প্রক্রিয়া শুরু করলেও যদি নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নবায়ন সম্পন্ন না হয়, তবে ঋণ ‘বিরূপ মানে’ শ্রেণিকৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত তা নবায়ন করা যাবে।নির্ধারিত সময়ে নবায়ন না হওয়ার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।সীমাতিরিক্ত অংশ সমন্বয় সাপেক্ষে ঋণ নবায়ন করা যাবে।তবে সীমাতিরিক্ত অংশ আলাদা করে নতুন ঋণ সৃষ্টি বা অন্য কোনো হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না।প্রয়োজনে ঋণ সম্পূর্ণ সমন্বয়ও করতে হবে।নতুন এ নির্দেশনা জারির সঙ্গে সঙ্গে গত বছরের ২৫ জুনের সার্কুলার বাতিল বলে গণ্য হবে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক লেনদেন ও বাজারে তারল্য সংকটের প্রেক্ষাপটে ঋণ নবায়নে সময়সীমা শিথিল হওয়ায় ব্যবসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সহজ হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঘোষিত শিথিলতা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত