আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারীদের রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যেখানে নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং সমাজের সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। 🌍👩🦰
শনিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস–২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। এ প্রেক্ষাপটে এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য—‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—বিশেষ তাৎপর্য বহন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী। তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, নারীর ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৭৮ সালে ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ১৯৯৪ সালে এটি ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হয়েছিল, যা নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। বর্তমান সরকারও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সাইবার বুলিং ও অনলাইনে হয়রানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রমজান উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী জাকাত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। যদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিবছর ধাপে ধাপে দরিদ্র পরিবারগুলোকে জাকাতের অর্থ সহায়তা দেওয়া যায়, তবে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দারিদ্র্য কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে ধনী ব্যক্তিদের সচেতন করতে আলেম-ওলামাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি এতিমদের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তবে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সমাজে এগিয়ে যেতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, রমজান সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস হলেও এ সময় অনেক ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, যা দুঃখজনক।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা তৃতীয় শনিবারও কার্যালয়ে কাজ করেছেন তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বিভিন্ন বৈঠক ও প্রশাসনিক কাজ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান ও জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, দুপুরে কার্যালয়ে এসে তিনি বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তারের সঙ্গে পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত