নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মঞ্চে তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে কয়েকজন উপকারভোগী নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পারভিন, বাসুনা, সমলা, বকুলা, জোসনা, তাসলিমা আক্তার, রাশেদা আক্তার, হোসনা আক্তার, রীনা বেগম, শামসুন্নাহার, রোকসানা আক্তার, মারফুজা, রীনা আক্তার, সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম ও মিনারা বেগম। পরে সাততলা বস্তি ও ভাষানটেক এলাকার কয়েকজন উপকারভোগী তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে এই উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর ল্যাপটপের বাটন চাপ দিয়ে দেশের ১৩টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে। তবে বড় বা যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী অতিরিক্ত কার্ড দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই সহায়তার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) পদ্ধতির মাধ্যমে দারিদ্র্যের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে এই সহায়তার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে স্পর্শবিহীন চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতির মাধ্যমে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগী নারীর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ওয়ালেটে পাঠানো হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ না থাকে।
এ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কিছু শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলে কিংবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বা বিলাসবহুল সম্পদ থাকলে সেই পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে না।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বড় অংশ সরাসরি উপকারভোগীদের নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে এবং অবশিষ্ট অর্থ কার্ড প্রস্তুত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
সরকারি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত