সৌদি আরবের উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ২৫০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বণ্টনের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। সৌদি বাদশাহ সালমান প্রতিষ্ঠিত ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ থেকে পাওয়া এই খেজুর জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব প্রথমে বাংলাদেশকে ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর উপহার দেয়। পরে বণ্টনের জন্য সংশোধিত বরাদ্দপত্রে মোট ১২ হাজার ২৫০ কার্টন খেজুর জেলাভিত্তিকভাবে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।
গত ১ মার্চ এসব খেজুর জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়। পরে ৫ মার্চ জারি করা সংশোধিত আদেশে আগের কিছু বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে জেলাভিত্তিক তালিকা নির্ধারণ করা হয়। এতে ঢাকায় মাস্তুল ফাউন্ডেশন, ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাস ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া পূর্বের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলার জনসংখ্যা ও ইউনিয়নের অনুপাতে খেজুর বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী এসব খেজুর স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণ করা হবে।
সর্বশেষ বরাদ্দ অনুযায়ী ঢাকা জেলায় ২৯৭ কার্টন, নারায়ণগঞ্জে ১০১, গাজীপুরে ১০৩, মুন্সিগঞ্জে ১৮০, মানিকগঞ্জে ১৭১, নরসিংদীতে ১৮৮, টাঙ্গাইলে ৩০০, কিশোরগঞ্জে ২৮০, ফরিদপুরে ২১০, গোপালগঞ্জে ১৭৫, মাদারীপুরে ১৫৭, শরীয়তপুরে ১৭৩ এবং রাজবাড়ীতে ১১০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগে ময়মনসিংহে ৪১৪, নেত্রকোনায় ২২৬, জামালপুরে ১৭৭ এবং শেরপুরে ১৩৭ কার্টন বরাদ্দ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় ৫০০ করে কার্টন, কক্সবাজারে ১৮৭, রাঙ্গামাটিতে ১৩০, খাগড়াছড়িতে ৯৭, বান্দরবানে ৯০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬০, চাঁদপুরে ২৩৫, নোয়াখালীতে ২৪৩, লক্ষ্মীপুরে ১৫৪ এবং ফেনীতে ১১২ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে রাজশাহীতে ১৯০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১৬, নওগাঁয় ২৫০, নাটোরে ১৩৫, পাবনায় ১৯৬, সিরাজগঞ্জে ২২১, বগুড়ায় ২৯১ এবং জয়পুরহাটে ৮১ কার্টন বরাদ্দ রয়েছে।
রংপুর বিভাগে রংপুরে ২০১, কুড়িগ্রামে ১৯২, নীলফামারীতে ১৬১, গাইবান্ধায় ২১৪, লালমনিরহাটে ১১৬, দিনাজপুরে ২৬৫, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪১ এবং পঞ্চগড়ে ১১২ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগে খুলনায় ১৮২, বাগেরহাটে ২০৩, সাতক্ষীরায় ২০৭, যশোরে ২৪৭, ঝিনাইদহে ১৭৫, মাগুরায় ৯২, নড়াইলে ১০১, কুষ্টিয়ায় ১৭৪, মেহেরপুরে ৫১ এবং চুয়াডাঙ্গায় ১০৫ কার্টন বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল বিভাগে বরিশালে ২৩৪, পটুয়াখালীতে ২০২, ভোলায় ১৮৭, পিরোজপুরে ১৩৯, বরগুনায় ১১০ এবং ঝালকাঠিতে ৮২ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে। সিলেট বিভাগে সিলেটে ২৭৫, হবিগঞ্জে ২০০, মৌলভীবাজারে ১৭০ এবং সুনামগঞ্জে ২২৫ কার্টন বরাদ্দ রয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, তার এলাকার দেবিদ্বার উপজেলায় ৩৯ কার্টন খেজুর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলার বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম বরাদ্দ তালিকায় কুমিল্লা জেলার জন্য ৫২০ কার্টন খেজুর উল্লেখ থাকলেও পরে সংশোধিত তালিকায় তা কমিয়ে ৫০০ কার্টন করা হয়। এতে ২০ কার্টনের হিসাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।