ফরিদপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা করার দায়ে স্বামী আহাদ শেখকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আহাদ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের কাজী বল্লভদী গ্রামের বাসিন্দা। নিহত রুবাইয়া বেগম একই উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের মেয়ে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালে রুবাইয়া বেগমের সঙ্গে আহাদ শেখের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের প্রায় তিন বছর পর সৌদি আরব যাওয়ার অজুহাতে স্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আহাদ। এ সময় রুবাইয়ার পরিবার এক লাখ টাকা দিলেও বাকি দুই লাখ টাকার জন্য তিনি চাপ দিতে থাকেন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট যৌতুকের বাকি টাকা না পেয়ে আহাদ শেখ প্রথমে স্ত্রীকে মারধর করেন এবং পরে বিষ খাইয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর নিহত রুবাইয়ার মা রোমেছা বেগম বাদী হয়ে আহাদ শেখ, তার মা এবং তিন ভাইসহ পাঁচজনকে আসামি করে সালথা থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর জেলা সিআইডি কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আমিনুজ্জামান। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৩ জুন আহাদ শেখ ও তার দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ এবং মাহিম শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী জানান, আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আহাদ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তার দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।
তিনি আরও বলেন, যৌতুক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এই ধরনের অপরাধ দমনে আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।