চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হঠাৎ বয়ে যাওয়া তীব্র ঝড়ে বিভিন্ন উপজেলার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও আমবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে পল্লী বিদ্যুতের একাধিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহককে টানা ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছাড়াই থাকতে হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত প্রায় ৯টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বিশেষ করে পানির মোটর চালাতে না পারায় অনেক পরিবার গৃহস্থালি কাজে সংকটে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।
ভোলাহাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ইব্রাহীম জানান, ডাকবাংলো এলাকায় একসঙ্গে চারটি খুঁটি ভেঙে পড়াসহ মোট আটটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামতে কারিগরি দল কাজ করছে বলে তিনি জানান।
এদিকে ঝড়ের প্রভাবে জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষিরা। রহনপুরের আমচাষি আব্দুর রাজ্জাক ও শিবগঞ্জের মোজতবা আলম জানান, গাছে সদ্য মুকুল থেকে বের হওয়া আমের গুটি ঝড়ের আঘাতে ব্যাপকভাবে ঝরে গেছে। অনেক জায়গায় বড় বড় আমগাছও ভেঙে পড়েছে, ফলে এবার ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
অন্যদিকে গোমস্তাপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ঝড়ের তীব্রতায় কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের টিনের চাল উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আলিনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, ঝড়ের সময় তার ঘরের চাল উড়ে গেলে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির আলী মুন্সি জানান, ঝড়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত