আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ছুটি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম পরিশোধ করেছে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণার ফলে শ্রমিকদের ঘরমুখো যাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোও এক-দুই দিনের মধ্যে ছুটি ঘোষণা করবে। এতে করে একযোগে শ্রমিকদের যাতায়াতের চাপ কমবে এবং সড়কে যানজট ও ভোগান্তি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেতন ও বোনাস পরিশোধের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় সব কারখানাই ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ সম্পন্ন করেছে এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ঈদ বোনাসও দেওয়া হয়েছে। যেসব কারখানায় এখনও পরিশোধ বাকি রয়েছে, সেগুলোতে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, রপ্তানি আয় হ্রাস, জ্বালানি সংকট ও ব্যাংকিং খাতের তারল্য সমস্যার মধ্যেও উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও এ পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সহায়তামূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ও দ্রুত নগদ সহায়তা প্রদানের ফলে অনেক কারখানার তারল্য সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অগ্রিম বেতন প্রদান এবং ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণার উদ্যোগ শ্রমিকদের ঈদযাত্রাকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করবে। এতে একদিকে শ্রমিকরা সময়মতো পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, অন্যদিকে সড়কে অতিরিক্ত চাপও কমবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঈদকে ঘিরে শিল্পাঞ্চলে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না এবং সামগ্রিকভাবে স্বস্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত