পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবার প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা-কে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যৌথ টহল, চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঈদের সময়েও অধিকাংশ পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন—মোট সদস্যদের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকবেন বলে জানা গেছে।
র্যাব জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রধান টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টিমও মাঠে কাজ করবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশির জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে।
যাত্রীসেবায় বাড়তি নজর দিতে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল এলাকায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে র্যাব।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে ডিএমপি চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন। পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হবে এবং প্রবেশের আগে নিরাপত্তা তল্লাশি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের অপ্রয়োজনীয় ব্যাগ বা সামগ্রী বহন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এবারের ঈদে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সড়ক বা রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটলে আকাশপথে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন ব্যবহার করে যান চলাচল পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঈদের ছুটিতে রাজধানী ছাড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ফাঁকা হয়ে পড়া শহরে চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি বিবেচনায় টহল জোরদার করা হয়েছে। বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ঈদযাত্রায় টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। টার্মিনালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে বিশেষ টিম কাজ করছে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে উৎসবকে কেন্দ্র করে মাদক বা চোরাচালান বৃদ্ধি না পায়। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার কার্যক্রমে প্রস্তুত রয়েছে। নৌপথে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় ডুবুরি দল, রেসকিউ বোট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বহুমাত্রিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত