বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ভক্ত-সহকর্মীর হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই শিল্পী মৃত্যুর মধ্য দিয়েও স্মৃতিতে থেকে যাবেন।
৬১ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার সকালে রাজধানীর চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজা। সেখানে নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীর হেতেম খাঁ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে তার মরদেহ রাজশাহী নগরের ঝাউতলা এলাকার বাসায় নেওয়া হলে সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন এবং ভক্তদের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।
[caption id="attachment_8513" align="alignnone" width="741"]
চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা।[/caption]
সহকর্মীদের অনেকেই তার স্মৃতিচারণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, হঠাৎ তার মৃত্যুর সংবাদে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলুও জানান, শামস সুমনের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি তাকে নাড়া দিচ্ছে এবং এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বড় ছেলে জুবায়ের শামস শাহিল বিদেশে পড়াশোনা করায় পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় মরদেহ কিছু সময় সংরক্ষণ করা হয়। পরে পরিবারের সবাই একত্রিত হওয়ার পর দাফন সম্পন্ন হয়।
রাজশাহীতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা শামস সুমন পড়াশোনায়ও ছিলেন কৃতী। রাজশাহী সরকারি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
[caption id="attachment_8514" align="alignnone" width="740"]
শামস সুমন[/caption]
শৈশব থেকেই অভিনয় ও আবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীতে কাজের মাধ্যমে তার শিল্পীজীবনের সূচনা। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে মঞ্চনাটক ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান।
চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে— মন জানে না মনের ঠিকানা, কক্সবাজারে কাকাতুয়া, চোখের দেখা, প্রিয়া তুমি সুখী হও, আয়না কাহিনী, বিদ্রোহী পদ্মা, জয়যাত্রা, নমুনা ও হ্যালো অমিত।
[caption id="attachment_8515" align="alignnone" width="741"]
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত শামস সুমনের জানাজা।[/caption]
অভিনয়ে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে কাজের গতি কমে গেলেও অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা ছিল তার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সময়ের পরিবর্তিত ধারার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সেই প্রত্যাবর্তন আর হলো না।
শামস সুমনের প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ভক্ত ও সহকর্মীরা মনে করেন, তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত