জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধা’দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও এক আলোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তুতি এবং আগামী পাঁচ বছরের শিক্ষা উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচনী অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা চালু এবং হাফেজে কোরআনদের সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ কর্মসূচি দেশের মানুষের কল্যাণ ও তাদের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর লক্ষ্য জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিদ্যমান জট দ্রুত দূর করতে হবে। প্রয়োজনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথা বলা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর জন্য এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
এছাড়া এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ের সব শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।