রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর এলাকার রেহেনা আক্তার (৬১) ও তার ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), সোহা আক্তার (১১), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), তাজবিদ (৭), লিমা আক্তার (২৬), সাবিত হাসান (৮), জোস্ন্যা (৩৫), মর্জিনা আক্তার (৩২) ও তার মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ফাইজ শাহানূর (১১), নাজমিরা জেসমিন (৩০) ও তার ছেলে আব্দুর রহমান (৬)।
এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাসচালক আরমান খান (৩১), মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), শিশু ইস্রাফিল (৩), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), সাত মাস বয়সী শিশু আরমান, মুক্তা খানম (৩৮), নাছিমা (৪০) এবং আয়েশা আক্তার সুমা (৩০)।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহগুলো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত আরও তিনজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে আসে। যাত্রীদের বেশিরভাগই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন যাত্রী জানান, বাসটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ছিল। নারী ও শিশুসহ প্রতিটি আসন পূর্ণ ছিল, এমনকি ইঞ্জিন কভারের ওপরও যাত্রী বসানো হয়েছিল। ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার আগে কয়েকজন যাত্রী নেমে গেলেও বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে এখনও কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত