বরিশালের গৌরনদীতে গৃহবধূ বিলকিস বেগমের (৩২) রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জনরোষে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী। ‘পরিকল্পিত হত্যা’ অভিযোগ তুলে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে নিহতের স্বজনরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কলেজগেট এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধে মুহূর্তেই স্থবির হয়ে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক। দূরপাল্লার বাসসহ শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, যাত্রীদের নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চিত্রও দেখা যায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পরিবারের অভিযোগ: “হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা সাজানো হয়েছে”
বিক্ষোভ সমাবেশে নিহত বিলকিসের বাবা সাত্তার বেপারী, ভাই কবির বেপারী, সাইফুল বেপারী এবং স্থানীয় নুরু মুন্সীসহ অনেকে ক্ষোভ উগরে দেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে বিলকিসের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তার স্বামী মাইনুল গাজী।
তাদের ভাষ্য,
“গত সোমবার রাতে পরিকল্পিতভাবে বিলকিসকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তার মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।”
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করায় তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নামেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
অভিযুক্ত পক্ষের দাবি: “এটি আত্মহত্যা, হত্যার অভিযোগ ভিত্তিহীন”
এদিকে অভিযুক্ত স্বামী মাইনুল গাজীর বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার বাবা আলতাফ গাজী সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন,
“তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। এর জেরে বিলকিস নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।”
পুলিশের বক্তব্য: ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই মিলবে সত্য
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি বলেন,
“গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার সূত্রপাত-
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে গৌরনদী উপজেলার উত্তর চাঁদশী গ্রামের একটি বাগান থেকে তিন সন্তানের জননী বিলকিস বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে আসছে নিহতের পরিবার।
গৌরনদীর এই রহস্যমৃত্যু এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-এটি কি নিছক আত্মহত্যা, নাকি যৌতুকের নির্মম বলি? ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে পুরো এলাকা।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত