শেরপুর শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনের নিচতলায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুদকৃত তেল অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের গোপালবাড়ী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শেরপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় ট্যাংক স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এ ঘটনায় মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সের মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সহযোগী শফিকুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে মিলে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই আবাসিক এলাকার মধ্যে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছিল। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে নির্দেশ দিয়েছে, একদিনের মধ্যে মজুদকৃত ডিজেল ও স্থাপিত ট্যাংক অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে এ জরিমানা করা হয়েছে। আবাসিক ভবনে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তেল অপসারণ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেল অপসারণ প্রক্রিয়া তদারকিতে প্রশাসনের নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য লাইসেন্স ও কাগজপত্রও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের দাহ্য পদার্থ মজুদ বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।