চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গণমাধ্যম অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত একটি পত্রিকাকে ক্রোড়পত্র প্রদান করা হয়েছে, যা নিয়ে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জেলার একাধিক সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত দৈনিক ‘চাঁপাই দৃষ্টি’–কে এবারের স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র প্রদান করা হয়েছে, যা নীতিমালা ও যোগ্যতা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা ‘চাঁপাই দৃষ্টি’র তালিকাভুক্তি বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস/২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’র নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপরই বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এটিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো ঘটনা বলে মন্তব্য করছেন।
জেলার একাধিক গণমাধ্যমকর্মী জানান , দীর্ঘদিন ধরে কিছু গণমাধ্যম নীতিমালা উপেক্ষা করে সুবিধা ভোগ করে আসছে এবং একইসঙ্গে সরকারি বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছে, যা অন্য গণমাধ্যমের জন্য বৈষম্য তৈরি করছে।
অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পত্রিকাটির অফিস কাঠামো, জনবল ও কার্যকর অবকাঠামো ডিএফপি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া অতীতে সরকারি সুবিধা ও বিজ্ঞাপন বণ্টন প্রক্রিয়াতেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
সাংবাদিকদের একাংশের দাবি, এসব অনিয়ম তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)র জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে একই ব্যক্তি দায়িত্বে থাকায় পরিবর্তন না আনার বিষয়টি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গণমাধ্যম অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও মতবিরোধ বিদ্যমান। বিভিন্ন সময় সরকারি ও বেসরকারি সুবিধা বণ্টন, ডিএফপি তালিকাভুক্তি এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে এই বিভাজন আরও গভীর হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সিনিয়র ও জুনিয়র গণমাধ্যমকর্মীরা একযোগে দাবি জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে ডিএফপি তালিকাভুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের মতে, গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।
আরো জানাগেছে , সাংবাদিক এমরান ফারুক মাসুম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে আন্দোলনের বিরোধিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় আন্দোলনের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করায় জেলা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’সহ দুটি পত্রিকা এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এমরান ফারুক মাসুম। সেই প্রতিবেদনে উল্লিখিত পত্রিকা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।
তবে পরদিন ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে এবং দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর পরবর্তী সময়ে মাসুমের অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা গেছে বলে সমালোচকদের দাবি। তারা অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে তিনি জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জেলার গণমাধ্যম পরিবেশে স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত