সিলেটে জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য মজুতদারি, নাশকতা ও সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা ও মেঘনা ডিপোতে বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার জেলাসহ দেশের মোট ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি ডিপোতে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে সদস্যরা টহল ও সার্বিক তদারকি করছেন। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
তবে ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ জনমনে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। বরং তেল চুরির উৎস বা চোরাই পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি বাড়ানোই কার্যকর হবে, যাতে তেল পাচার রোধ করা যায়।
এ বিষয়ে বিজিবি ১৯ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সিলেটের পদ্মা ও মেঘনা ডিপোতে দুই প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার একাধিক ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে টহল জোরদার করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনগুলোতে পণ্যবাহী যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে গুজব প্রতিরোধ এবং পাম্প পর্যায়ে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে তদারকির জন্য ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মজুত বা কারসাজির তথ্য দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত