ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ঝাল চত্বর শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় আড্ডাস্থল হলেও বর্ষায় এটি কর্দমাক্ত হয়ে ভোগান্তির কারণ হয়। গত ১২ অক্টোবর বালু ফেলে সংস্কার শুরু করলেও ছয় মাসের মধ্যে আবারও বৃষ্টিতে আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। শিক্ষার্থীরা বারবার সংস্কারের দাবি জানালেও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়ান হয়নি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র আশ্বাসেই ঝুলে আছে ঝাল চত্বরের সংস্কার কাজ। ফলে অতিদ্রুত স্থানটির পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চত্বরটি জুড়ে বিভিন্ন ধরনের স্টেশনারি, কফিশপ, টি-স্টল, ভাজাপোড়ার দোকান, খাবার হোটেল ও বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবারের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিড় করে, আড্ডা দেয়। ক্লাস শেষে দুপুরে খাবার খেতে ঝাল চত্বরের হোটেলগুলোতেই আসেন শিক্ষার্থীরা। একইসাথে শিক্ষক, কর্মচারী, কর্মকর্তা সহ ছাত্রসংগঠনগুলোও আড্ডা দেন এখানে। তবে বৃষ্টি হলেই বাঁধে বিপত্তি। পানিতে ডুবে গিয়ে কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে চত্বরটি। এতে দোকানদারিদের বেচাকেনায়ও বিঘ্ন ঘটে।
জানা যায়, গতবছরের ১২ অক্টোবর আমবাগানে বালু ফেলার জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পরদিন ১৩ অক্টোবর বালু ফেলে কাজ শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু সম্প্রতি বৃষ্টিতে কাঁদা হওয়া ঠেকাতে পারেনি সেই বালু। একইসাথে পুরো স্থানটি ময়লা আবর্জনাতে জমে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যে কারণে স্থানটিকে অতিদ্রুত পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরারুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর যাচ্ছে কিন্তু ঝাল চত্বর কাঁদামুক্ত হচ্ছে না। অথচ এই স্থানটিতে আমরা সবচেয়ে বেশি সময় আড্ডা দিই। কিন্তু বর্ষা এলেই যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয় তা মেনে নেওয়ার মতো না। গতবছর বালু ফেলা হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা স্থানটিকে সোলিং ইট দিয়ে ঢালাই করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, গতবছর আমাদের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম দেওয়া পর তারা বালু ফেলেছিল। কিন্তু এ বছর বৃষ্টি হওয়ার পর পুনরায় আবার কাদায় ভরে গেছে এ চত্বর। আমরা আর কোনো নয়ছয় দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে সমগ্র ঝাল চত্বরকে পাকা করার পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ উদ্দিন বলেন, আমরা শীঘ্রই সেখানে বালুমাটি দিয়ে কাঁদা বন্ধ করার ব্যবস্থা করব। তবে পাকা করার জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন যার অনুমোদন এখনো আমরা পাইনি। তাই আপাতত পাঁকা করে দেওয়ার কাজ শুরু করতে পারছি না।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত