চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের মধ্যে প্রাণঘাতী রোগ ‘হাম’-এর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম বুলবুল। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান এবং চিকিৎসা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করে হামের বর্তমান পরিস্থিতি, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় শিশুদের চিকিৎসা জোরদারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে হামের টিকা (১০০ ভায়াল) এবং ভিটামিন-এ ক্যাপসুল হস্তান্তর করেন এমপি বুলবুল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক লতিফুর রহমান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মশিউর রহমান, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মোঃ আব্দুস সামাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে এমপিকে অবহিত করে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মশিউর রহমান জানান, হামের রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পরিদর্শনের এক পর্যায়ে হাসপাতালের আইসোলেশন কর্ণার ঘুরে দেখেন সংসদ সদস্য। সেখানে শিশু রোগী ও তাদের অভিভাবকদের গাদাগাদি করে রাখা এবং ঘিঞ্জি পরিবেশ দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দ্রুত কক্ষ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, “এভাবে গাদাগাদি করে রোগী রাখলে তাদের সুস্থতা ব্যাহত হবে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে চিকিৎসার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
এমপি বুলবুল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হামে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদান এবং অন্যান্য রোগীদের সেবার মান বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে, জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শুক্রবার সকালে সদর হাসপাতালে মাসুদা খাতুন (২ বছর ৪ মাস) নামে এক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মো. নইমুরের মেয়ে মাসুদাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রুমালী খাতুন জানান, শিশুটিকে দ্রুত ওয়ার্ডে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে মোট ৪৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত তিন মাসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে, যা জেলার জন্য উদ্বেগজনক।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। একইসাথে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ ও আক্রান্তদের পৃথক রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের বাড়তে থাকা এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।