চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়কে ভয়াবহ অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। পিচ কার্পেটিংয়ের বদলে সড়কের ফাঁকা অংশ রাতারাতি মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। আরও বিস্ময়কর বিষয়—কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক-দুদিনের মধ্যেই হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে পিচ!
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা থেকে মহাডাঙ্গা হয়ে আলীনগর রেলগেইট পর্যন্ত প্রায় ৫.৩ কিলোমিটার সড়কের পুনঃনির্মাণকাজ চলছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৩১১ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের আড়াই মিটার প্রস্থ থাকলেও অনেক জায়গায় ফাঁকা রেখেই পিচ কার্পেটিং শেষ করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
এরপরই তড়িঘড়ি করে ‘সমাধান’ দিতে নামে ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, গত ৩ ও ৪ এপ্রিল মাত্র ৮ জন শ্রমিক দিয়ে সড়কের পাশের মাটি কেটে ফাঁকা অংশগুলো ভরাট করা হয়—যা কার্যত পিচের বদলে মাটির কার্পেটিং!
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাডাঙ্গা থেকে আলীনগর রেলগেইট পর্যন্ত একাধিক স্থানে কাজ শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই পিচ উঠে যাচ্ছে। স্থানীয় তরুণরা হাত ও পায়ের চাপে পিচ তুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন—যা নির্মাণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“রাস্তা এতটাই সরু করা হয়েছে যে অনেকে এটাকে পুলসেরাতের চেয়েও চিকন বলছে। এক পাশে রেললাইন, অন্য পাশে ডোবা—তার ওপর আবার পুরো প্রস্থে পিচ দেওয়া হয়নি।”
কলেজছাত্র ইয়াসির আরাফাত বলেন, “প্রথমে ফাঁকা রেখেই কাজ শেষ করা হয়। পরে সমালোচনা শুরু হলে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব জানার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।”
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কোটি টাকার রাস্তা যদি বাচ্চাদের হাতেই উঠে যায়, তাহলে এমন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন না তুলে উপায় কী? এমপি পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করেছেন, তবুও কাজের মান ঠিক হয়নি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর -৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: নুরুল ইসলাম বুলবুল সড়কটির নির্মাণমান নিয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সেলিম রেজা। তিনি বলেন, “কাজের মান ঠিক আছে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি ঢাকায় আছি, এসে নিজে দেখাবো।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলামও দাবি করেন, “রোড রোলার চালানোর কারণে কিছু জায়গায় প্রস্থ পরিবর্তন হয়েছে। তবে ফাঁকা অংশগুলো ঠিকাদার মেরামত করেছে। আমরা কাজ পরীক্ষা করেছি, নিম্নমানের কোনো প্রমাণ পাইনি।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোটি টাকার প্রকল্পে যদি এমন নিম্নমানের কাজ হয়, তবে এর দায় নেবে কে? সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, সচেতন মহলের মতে, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে জনসাধারণের আস্থা আরও কমে যাবে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত