প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৮, ২০২৬, ৪:৪৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১০:৪৪ পি.এম
মহিলালীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে ফুটবল মাঠ ভরাট ও গোরস্থানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
মানুষের জীবনের শেষ আশ্রয়স্থল-গোরস্থান। যেখানে শেষ নিঃশ্বাসের পর চিরনিদ্রায় শায়িত হন প্রিয়জনেরা, যেখানে স্বজনরা দাঁড়িয়ে করেন দোয়া, স্মরণ আর অশ্রুসিক্ত বিদায়। সেই পবিত্র স্থান রক্ষণাবেক্ষণের বরাদ্দ অর্থও রক্ষা পায়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা মহিলা লীগের সহ-সভাপতি নাসরিন আখতারের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের ঘুঘুডিমা বাজারে স্থানীয় গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ওঠে এসব গুরুতর অভিযোগ। ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত চার দফায় মোট ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ঘুঘুডিমা ফুটবল মাঠের গর্ত ভরাট এবং গোরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজই দৃশ্যমান হয়নি।
তাদের দাবি, মাঠ ভরাটের নামে অন্তত ৪ লাখ টাকার কাজের কোনো চিহ্ন নেই। আর গোরস্থানের মতো একটি সংবেদনশীল ও ধর্মীয় স্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে কবরস্থানটি। স্থানীয়দের ভাষ্য, “যেখানে আমাদের বাবা-মা, স্বজনরা শুয়ে আছেন, সেই জায়গার উন্নয়নের টাকা পর্যন্ত যদি লুট হয়ে যায়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নাসরিন আখতার খেলার মাঠ সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন গাছ কেটে বিক্রি করেছেন। এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
[caption id="attachment_9638" align="alignnone" width="765"]
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের ঘুঘুডিমা বাজারে স্থানীয় গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ওঠে এসব গুরুতর অভিযোগ।[/caption]
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আনোয়ার হোসেন, আলতাফুর রহমান, নাসিম আলী, মো. বারকুল্লাহ, আরিফ হোসেনসহ অনেকে।
অভিযোগের বিষয়ে নাসরিন আখতার বলেন, “একটি ক্লাবঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পুরোনো অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন জানান, এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—যেখানে মানুষের শেষ ঠিকানা, সেই গোরস্থানের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের বরাদ্দ অর্থ যদি আত্মসাতের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কতটা দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
[email protected]
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত