ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মুঈদ বাবুল বলেন, আপনারা যে প্রশাসন ভবন বন্ধ করেন, আমাদের কর্মকর্তারা অসুস্থ হয়ে যায়। এটা আর করতে দেওয়া যাবে না। প্রশাসন ভবন বন্ধ করে কোনো দাবি আদায় করা যাবে না। কোনো দাবি থাকলে তা প্রশাসনের বাইরে থেকে জানাতে হবে। কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে বারবার প্রশাসন ভবন আসা আমরা মেনে নেবো না। আমরা ৪৮২ জন কর্মকর্তা মিলে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব । প্রতিবাদ করতে হলে তা গণতান্ত্রিকভাবে করেন
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় প্রশাসন ভবনের সামনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিতের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ তিনি একথা বলেন। এ ঘটনায় একই সাথে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইবি শাখা জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব এবং জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইবি জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক নজিবুল হক, ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান, ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান খান, ইবি জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদসহ শতাধিক শিক্ষক কর্মকর্তা।
তিনি আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে "গণতন্ত্রের মা" তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় কখনো আপোষ করেননি। বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার তীব্র নিন্দা ও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহধর্মিণী ও সন্তানের ছবি অবমাননা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৫ এপ্রিলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে কতিপয় ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিন্ন করে পদদলনের মাধ্যমে অবমাননার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। জাতীয় পতাকা আমাদের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। একইসঙ্গে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করা শুধু ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর আঘাত। এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা দেয় বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এক কর্মচারী। ওই কর্মচারীকে দেখতে না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে সামনে থাকা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত