বরিশালের গৌরনদীতে ঋণ খেলাপির দায়ে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন মুন্সীর বিপুল সম্পদ নিলামে তোলার ঘোষণায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি কঠোর আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তার মালিকানাধীন একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, টরকী বন্দর শাখার অধীনে ফরহাদ মুন্সীর কাছে ব্যাংকের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হারে মুনাফা (লাভ) যুক্ত হচ্ছে, যা দিন দিন ঋণের বোঝা আরও ভারী করে তুলছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি ও ব্যর্থতার পর অবশেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ২১ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক ‘সংগ্রাম’ ও ‘বাংলাদেশ বাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিলামের তালিকায় রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক সম্পদ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—বার্থী এলাকার এলাহী অটো রাইস মিল, কটকস্থল এলাকার এলাহী সিএনজি পাম্প ও হোটেল, বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফারিয়া পার্ক, টরকী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নিজ বাসভবন, টরকীর চর এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক গোডাউন, পাশাপাশি আব্দুল খালেক মুন্সীর খাট ও ভিটা জমিসহ আরও তফসিলভুক্ত সম্পত্তি।
স্থানীয়দের মতে, একজন প্রভাবশালী সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীর এমন বিপুল সম্পদ নিলামে ওঠা শুধু বিস্ময়ের নয়, বরং এটি একটি বড় সতর্কবার্তাও। তাদের ভাষ্য, পরিকল্পনাহীন বিনিয়োগ, অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা এবং সময়মতো দায় পরিশোধে ব্যর্থতাই এ পরিস্থিতির মূল কারণ।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্রহী ক্রেতারা সরাসরি টরকী বন্দর শাখায় যোগাযোগ করে নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বড় অংকের ঋণ গ্রহণের আগে ঝুঁকি বিশ্লেষণ, বাজার বাস্তবতা এবং আর্থিক সক্ষমতা যাচাই না করলে যে কোনো সময় এমন আর্থিক বিপর্যয়ে পড়তে হতে পারে।
এদিকে, পুরো ঘটনাকে ঘিরে গৌরনদীসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই বলছেন, সময়মতো আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় না রাখলে প্রভাব-প্রতিপত্তিও শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারে না অর্থনৈতিক পতন থেকে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত