ময়মনসিংহ নগরীতে সিএনজি অটোরিকশা খাত এখন যেন এক অস্থিরতার নাম। একদিকে ট্রাফিক বিভাগের ধারাবাহিক মামলা, অন্যদিকে স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি নিয়ে দ্বন্দ্ব-সব মিলিয়ে চালক ও মালিকদের জীবন-জীবিকা চাপে পড়েছে, আর সাধারণ যাত্রীও ভোগান্তিতে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এদিকে একটি আবাসিক এলাকায় সিএনজি স্ট্যান্ড থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ।
নগরীর স্টেডিয়াম, থেকে মুক্তাগাছা, মধুপুর এবং জামালপুর রুটে প্রায় সাত শতাধিক সিএনজি চলাচল করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অধিকাংশ যানবাহনের কাগজপত্র থাকলেও নিয়মিত নবায়ন না হওয়ায় তা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে ট্রাফিক বিভাগ গত একমাসে ময়মনসিংহ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম মাউলা জানান গত মাসে সিএনজির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৬৪ টি জরিমানা হচ্ছে ১৮ লক্ষ টাকার উপর ।
চালকদের অভিযোগ, অতীতে নিয়মিত চাঁদা প্রদানের কারণে প্রশাসনিক চাপ তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০টি মামলা দেওয়া হচ্ছে, যার প্রতিটির খরচ ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে চালকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।প্রায় ৭শ এর মতো সিএনজি হলে এর প্রায় সকল সিএনজির কাগজপত্র আপডেট নেই । লাইসেন্স সহ কল কিছু সমস্যা এসব থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই সরকার যদি পুর্বের বকেয়া মওকুফ করার সুযোগ করে দিলে আমরা মামলা থেকে রক্ষা পেতাম । এছাড়া আগের বকেয়া জরিমানা মওকুফ ,কাগজপত্র হালনাগাদের সুযোগ চাঁদাবাজি বন্ধ ,স্থায়ী স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা
রোজার সময় থেকে নতুন করে “স্টেশন” বা “জিপি” (গ্রুপ/গ্যারেজ পয়েন্ট) এর নামে অতিরিক্ত ২০০ টাকা চাঁদা দাবি করা হলে চালকরা এর প্রতিবাদ করেন। এমনকি মহাসড়ক অবরোধ পর্যন্ত গড়ায় পরিস্থিতি। এরপর থেকে অভিযোগ ওঠে—প্রতিবাদের জেরে চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া শুরু হয়।
বর্তমানে চালকরা দাবি করছেন, তারা শুধু ৩০ টাকা দিচ্ছেন, যা মূলত নিরাপত্তা ও সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এই আর্থিক দ্বন্দ্বই এখন বড় সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে।
সিএনজি স্টেশন কোথায় হবে—এই প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়েছে চালক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। কেউ চান টাউন হল থেকে জেলখানা এলাকায় স্থানান্তর, আবার কেউ চান স্টেডিয়ামে। ইতোমধ্যে স্টেডিয়াম একটি আবাসিক এলাকায় একরকম রোড বন্ধ করে স্ট্যান্ড স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এই দ্বন্দ্বের জের ধরে সোমবার দুপুরে জেলখানা গেইট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে দুজন আহত হন।
সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলো একে অপরকে দোষারোপ করছে। একপক্ষের দাবি, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা হয়েছে। অন্যপক্ষ বলছে, এটি শুধুই চালকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। এই ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের নামও উঠে এসেছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ময়মনসিংহ নগরীতে শ্রমিক দলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারিতে দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে নগরীর জেলখানা গেইট সংলগ্ন এলাকায় চাঁদা ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ সংর্ঘষ হয় বলে জানা গেছে ।
আহতরা হলেন- নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি ও অটোরিকশার চালক রমজান আলী (৪৫) এবং মো. রাশেদ (২৪)। আহতরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধী
স্ট্যান্ডের অনিশ্চয়তার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। যেমন, জামালপুর থেকে আসা যাত্রীদের স্টেডিয়ামে নামিয়ে দেওয়া হলে তাদের সঙ্গে চালকদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। ফলে যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। প্রশাসন, চালক, মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপ জরুরি। স্বচ্ছ নিয়মনীতি ও কার্যকর তদারকি ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
ময়মনসিংহের সিএনজি খাত এখন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—সঠিক সিদ্ধান্তই পারে এই অচলাবস্থা দূর করতে এবং শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে।
মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম দুলাল বলেন, “সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসন নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে টাউন হল এলাকার অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়ে জেলখানা গেইট সংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের নির্দেশ দেয়। এরপর সেখানে স্ট্যান্ড বসানো হলে দৈনিক চাঁদা দাবি করে বাঁধা দেয় বিভাগীয় শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত দাস দুকুল। এ নিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে দুকুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী চালকদের ওপর হামলা চালিয়ে দুজনকে রক্তাক্ত করে।”
তিনি বলেন, “নগরীর অটোরিকশার চালকরা দুকুলের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। এসব ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধসহ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চাঁদাবাজি মামলা হলে দুকুল জামিনে কারা মুক্ত হয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিক দল নেতা দেবব্রত দাস দুকুল বলেন, “সম্প্রতি জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে আমরা স্টেডিয়াম এলাকায় অটোরিকশা স্ট্যান্ড করেছি। এ নিয়ে চালকদের সঙ্গে চালকদের গণ্ডগোল হয়েছে। আমি কারো ওপর হামলা করিনি বরং আমার ওপর হামলা হয়েছে।” তিনি আরো জানান বর্তমানে কোন সিএনজি থেকে কোন চাঁদা নেওয়া হয় না এ চাঁদার দাবিতে শহীদুল ইসলাম দুলাল এ ঘটনা ঘটিয়েছে । স্টেডিয়ামে জায়গা কোথায় দেওয়া হয়েছে সিএনজি স্ট্যান্ড তে একটি আবাসিক এলাকার ভিতরে । দুকুল জানান স্ট্যাডিয়ামে যে জায়গা দেওয়া হয়েছে সেসব স্থানে মাটি ভরাট করা হচ্ছে কিন্তু পুলিশ প্রশাসন থেকে নিষেধ করায় তাই এখন কাজ বন্ধ ।
এতে স্টেডিয়াম এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান স্টেডিয়াম কর্তপক্ষ জায়াগা খালি না করে কেন এলাকার সড়কে পাশে সিএনজি স্ট্যান্ড দিলো তা বোধগম্য নয় ।
এদিকে স্টেডয়াম যে জায়গা দেওয়া হয়েছে সে জায়গায় নার্সারি রয়েছে এ নার্সারি গুলোকে ওঠিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেএনজি স্ট্যান্ড । এতে নার্সরি মালিক রানা জানান ৭ দিনের সময় দিয়ে আমাদের নাসার্রি ওঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।আমরা নাসার্রি করার সময় গর্ত স্থান কে মাটি ভরাট সমতল করে নাসার্রি করি ৬ মাস ও হয়নি আমরা এ নাসার্রি নিয়ে যাবো কোথায় হয় আমাদের পূর্নবাসন করুক আর না হয় ক্ষতি পূরণ দিক ।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ টাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ গোলাম মওলা জানান ময়মনসিংহে সড়ক পরিবহন শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিযান জোরদার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত এক মাসে সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে মোট ৪৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে চালকদের কাছ থেকে ১৮ লক্ষ টাকারও বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, মিটার ব্যবহার না করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং বৈধ কাগজপত্র না থাকার মতো অভিযোগে এসব মামলা করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার আল আমিন জানান এ দুটি নাসার্রি গত ৪ মাস ধরে বারবার তাগাদা দিলেও ভাড়া নিয়মিত দিচ্ছে না । এছাড়া নগরে জানজট নিরসনে সিএন জি স্ট্যান্ড জাতীয় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে তাই এদের দেওয়া হযেছে ।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত