চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পেট্রলপাম্পে দায়িত্বরত এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধরের ঘটনায় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল রায়হানকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়েরের পরও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েও রায়হানকে না পাওয়ায় তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রশ্ন উঠেছে যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই নির্যাতনের শিকার হন, সেখানে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কতটুকু?
রোববার (২৬এপ্রিল) রাতে মারধরের শিকার নাচোল থানায় কর্মরত কনস্টেবল ও গাড়িচালক শওকত আলী বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় ১৪৩, ১৮৬, ৩৩২,৩৫৩,১১৪/৩৪ দঃবিঃ আইনে মামলাটি দায়ের করেন।মামলা নং-২৬। মামলায় বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল রায়হানকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয় । গোমস্তাপুর থানা পুলিশের অভিযানে ৩ জন কে গ্রেপ্তার হয়েছে। এবং বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রধান আসামি রায়হানসহ আত্মগোপনে সকল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৬ এপ্রিল/২০২৬ইংতারিখ রোববার দুপুরে নাচোল থানার একটি মেরামতাধীন গাড়ির জন্য ইঞ্জিন অয়েল নিতে গোমস্তাপুরের খয়রাবাদ এলাকায় অবস্থিত মেসার্স রায়হান ফিলিং স্টেশন-এ যান কনস্টেবল শওকত আলী। সেখানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়হান ও তার সহযোগীরা শওকতের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। ঘটনাস্থলেই শওকত আলী কে মারধর করা হয়।
ঘটনাস্থল ওই পেট্রলপাম্পের মালিক প্রধান আসামি রায়হানের বাবা আশরাফ হোসেন আলীম যিনি গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের এবং গোমস্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল রায়হান গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারেননি। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নানা সময় স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও এবার সরাসরি এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “যদি পুলিশের পোশাক পরা একজন সদস্যই হামলার শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” এই প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
পুলিশ বলছে, রায়হানসহ আত্মগোপনে থাকা সকল আসামি কে ধরতে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
ঘটনাটি শুধু একটি মারধরের অভিযোগ নয়, এটি আইনশৃঙ্খলার ওপর প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করছেন অনেকে। একজন দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য যদি রাজনৈতিক প্রভাবশালীর হামলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ-সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত