গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারিদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী বাছুর প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা। ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের আয়োজনে বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে বাসুদেবপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট্টা ফুটবল মাঠে জমে ওঠে খামারিদের প্রাণবন্ত এই আয়োজন।
‘ভাল জাতেই ভবিষ্যৎ গড়ে’ শ্লোগানে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শতাধিক খামারি অংশ নেন। ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের সিমেন ব্যবহার করে উৎপাদিত উন্নত জাতের ৬০টি বাছুর প্রদর্শন করা হয়, যা স্থানীয় খামারিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
আয়োজকরা জানান, গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় খামারিদের সম্পৃক্ত করাই এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা বলেন, উন্নত জাতের গবাদিপশু তৈরি হলে শুধু খামারির আয় বাড়বে না, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতও আরও সমৃদ্ধ হবে।
প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কবীর উদ্দীন আহমেদ, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক এমরান আলী প্রাং, গোদাগাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শায়লা শারমিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা ডিন প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দীন সরদার, ব্র্যাক কৃত্রিম প্রজনন এন্টারপ্রাইজের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ মোবাশ্বার হুসাইন পলাশ, এরিয়া সেলস ম্যানেজার মো. ইউনুস আলী, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. হেলাল উদ্দিন মণ্ডলসহ অনেকে।
প্রতিযোগিতায় প্রদর্শিত বাছুরগুলোর মধ্য থেকে ১৮টি সেরা বাছুরের খামারিকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকল খামারিকে সৌজন্য পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।
খামারিরা জানান, এমন আয়োজন শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা শেখার বড় প্ল্যাটফর্ম।অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে সাংস্কৃতিক আবহে মঞ্চস্থ হয় ‘সুখের খনি’ নাটক, যা দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।
প্রদর্শনী ঘিরে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। খামারি, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এটি পরিণত হয় প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের এক ব্যতিক্রমী মিলনমেলায়।