বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একদিনে পাগলা কুকুরের হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার টরকী, বিল্বগ্রাম, বার্থী, কটকস্থল, বাউরগাতি, সুন্দরদী ও মাগুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ আহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন গ্রহণ করা জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি উন্মত্ত (পাগলা) কুকুর হঠাৎ করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে পথচারীদের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। অনেকেই পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটির শিকার হন। কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সমীরণ হালদার বলেন, “আহতদের অধিকাংশই সময়মতো চিকিৎসা নিতে আসায় বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে সবাইকে অবশ্যই পূর্ণ ডোজের অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন নিতে হবে, না হলে ঝুঁকি থেকে যাবে।”
আহতদের মধ্যে টরকী কটকস্থল এলাকার সুমন তালুকদারের ৫ বছরের মেয়ে লাইজু, ইউনুস প্যাদার মেয়ে মুনা (২২), ইয়াছিন মিয়ার মেয়ে তাইয়েবা (৪), সুন্দরদী গ্রামের সামছুল আলমের মেয়ে মাসুদা বেগম (৩৬), উত্তর বাউরগাতি গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে পারুল বেগম (৫০), পশ্চিম বাউরগাতি গ্রামের লিখন প্যাদার ছেলে আবু বক্কর (১২), শামীম ঘরামীর মেয়ে সামিয়া (৭), বড় দুলালী গ্রামের মজিবর সিকদারের ছেলে নবীন (৬) এবং পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার মাগুরা গ্রামের ইসমাইল বেপারীর ছেলে সবুজ বেপারী (৩২)সহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা শিশুদের বাইরে যেতে দিচ্ছেন না, অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এলাকাবাসী দ্রুত ওই পাগলা কুকুরটিকে শনাক্ত করে আটক বা নিধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরটিকে শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও প্রচারণা চালানোর কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া, ভ্যাকসিনের পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করা এবং আক্রান্ত প্রাণী থেকে দূরে থাকা—এই তিনটি বিষয় মেনে চললেই বড় ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।