ময়মনসিংহে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের অধিভুক্ত কলেজগুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নগরীর আমলীতলার মধ্য বাড়েরা এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আঞ্চলিক কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ লুৎফর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
উদ্বোধন শেষে নগরীর টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেশনজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭ মাস সেশনজট কমেছে, আগামী এক বছরের মধ্যে তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। “যেসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে দেশের বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে, সেসব কোর্স অনার্স পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে,”—বলেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে গবেষণা ভাতা চালুর কথাও উল্লেখ করেন উপাচার্য।
শিক্ষার্থীদের প্রণোদনা দিতে ‘জুলাই স্মৃতি পুরস্কার’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তিন হাজার শিক্ষার্থীকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
আঞ্চলিক কেন্দ্র চালুর ফলে ফি আদায়, সার্টিফিকেট বিতরণ, পরীক্ষার খাতা বণ্টন ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সমন্বয় আরও জোরদার হবে।
এই আঞ্চলিক কেন্দ্রের আওতায় ময়মনসিংহ জেলার পাশাপাশি জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা জেলার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল কলেজ ও প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এখান থেকেই সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে রাজধানীমুখী চাপও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন এবং প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ লুৎফর রহমান। বক্তারা আঞ্চলিক কেন্দ্র চালুকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষার মানোন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।
২৭/২, দূর্গাপুর, উপর রাজারামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৬৩০০
২০২৫ © দৈনিক অধিকার কতৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত