বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেয়েছে শত শত কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল। উপজেলার মাহিলাড়া ও নলচিড়া ইউনিয়নের সংযোগস্থল মহিসখোলার বিলে অবৈধভাবে নির্মিত একটি বাঁধ অপসারণের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ একর জমির ফসলকে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলের স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থেকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত তদন্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীমের নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলা কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং ভূমি অফিসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরাও অভিযানে সহযোগিতা করেন।
অভিযান চলাকালে অবৈধ বাঁধটি অপসারণ করা হলে বিলের জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পথ পায়। এতে কৃষিজমিগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা আশা করছেন, সময়মতো পানি নেমে গেলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যক্তিগত মালিকানা থাকলেও জনস্বার্থে ব্যবহৃত পানি চলাচলের প্রাকৃতিক পথ বাধাগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ নেই। ‘পাবলিক ইজমেন্ট’ বা জনসাধারণের অধিকার লঙ্ঘন করে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয়। ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই অভিযানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আপাতত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়েছে, তবে পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর অবৈধ বাঁধ অপসারণ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মহিসখোলার বিল এলাকার কৃষকরা। তারা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষিজমি, জলাধার ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।