ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলায় এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন আগে ওই নারীকে ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল। তবে তার পরিচয় কিংবা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার ১ নম্বর দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের উত্তর রানিপুর (চিরাখালী) গ্রামের একটি দোকানের সামনে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই নারীকে সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ বা ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, বুধবার বিকেল থেকে তাকে উত্তর সীমান্ত এলাকা দিয়ে গ্রামে প্রবেশ করতে দেখা যায় এবং এরপর থেকে তিনি কখনো রাস্তার পাশে, কখনো বিভিন্ন বাড়ির আশপাশে অবস্থান করছিলেন।
দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন আহম্মদ বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী কয়েকদিন ধরে এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, নারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)-এর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। রোববার পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের ফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ওই নারীর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও নানা আলোচনা তৈরি হলেও পুলিশ সবাইকে গুজব এড়িয়ে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।