মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চরদৌলত খান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চান মিয়া শিকদারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও প্রকৃত জেলেদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ক্ষুব্ধ জেলেরা। সোমবার দুপুরে উপজেলা সরকারি সমন্বয় অফিসের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেলেদের অভিযোগ, সরকারের মানবিক সহায়তার চাল প্রকৃত কার্ডধারী জেলেদের না দিয়ে চেয়ারম্যান তার ঘনিষ্ঠ লোকজন, সমর্থক ও স্বজনদের মাঝে বিতরণ করেছেন। এতে বহু নিবন্ধিত জেলে চাল না পেয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তা দিতে সরকার চাল বরাদ্দ দেয়। নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলেদের মাঝে এ সহায়তা বিতরণের কথা থাকলেও চরদৌলত খান ইউনিয়নে সেই তালিকা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন চালবঞ্চিত জেলে দেলোয়ার কবিরাজ, মাইনউদ্দীন সরদার, সামচুল হাওলাদার, সনিয়া, ইয়াসিন, রেজাউল কবিরাজ ও শহিদুল কবিরাজ। তারা অভিযোগ করে বলেন,
“আমাদের নামে কার্ড আছে, কিন্তু চাল পাইনি। চেয়ারম্যান নিজের লোকজনকে বিনা কার্ডে চাল দিয়েছেন। আমরা গরিব মানুষ, নদীতে নামতে পারি না, আবার সরকারি সহায়তাও পাচ্ছি না।”
বিক্ষুব্ধ জেলেরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তালিকা প্রণয়ন ও চাল বিতরণে অনিয়ম হয়ে আসছে। প্রতিবাদ করলে নানা ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশে অংশ নেওয়া কয়েকজন জেলে দাবি করেন, অনেক প্রকৃত জেলের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লেও চেয়ারম্যানের অনুসারী এমন ব্যক্তিরাও চাল পেয়েছেন, যাদের মাছ ধরার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ ঘটনায় তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, চাল বিতরণের তালিকা প্রকাশ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চরদৌলত খান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চান মিয়া শিকদার। তিনি বলেন,
“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত জেলেদের মাঝেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এদিকে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার বলেন,
“কার্ডধারীরা চাল পাননি—এমন অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দরিদ্র জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা নিয়ে যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বঞ্চিত জেলেদের প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।